সৃষ্টিকর্তার অস্তিত্বের প্রমাণ!!!
সৃষ্টিকর্তা ছাড়া আপনি কিভাবে এলেন? আপনাকে সৃষ্টির মূলে কেউ না কেউ তো অবশ্যই আছেন! তিনিই হলেন সৃষ্টিকর্তা। তাই সৃষ্টিকর্তাকে মনে প্রানে ভালবাসুন ও সম্মান করুন।
এবার আসুন যারা সৃষ্টিকর্তা নেই বলে বিজ্ঞানীক যুক্তি দেখায়।
"সৃষ্টিকর্তা/ ইশ্বর আছেন কিনা" শুধুমাত্র এই বিষয়ে যিনি সন্দেহভাজন হয়ে প্রশ্ন করবেন তার নিজের টিক আছে কিনা সেটিই একটি বড় প্রশ্ন!??
কিন্তু কিছু নাস্তিক এবং সকল এন্টি-ধার্মিক যখন সৃষ্টিকর্তার অস্তিত্ব নিয়ে প্রশ্ন করে তখন আমরা নির্বাক হয়ে যাই; কোন উত্তর থাকে না আমাদের কাছে। আসেন সেইসব নাস্তিকদের বিজ্ঞানের চিন্তাধারা/ যুক্তি কাজে লাগিয়েই তাদের জব্দ করি ।
আমরা কেন তাদের নিকট জ্ঞানহীনতার জন্য হার মানবো?
প্রয়াত প্রখ্যাত বিজ্ঞানী স্টিফেন হকিং তার একটি গ্রন্থে বলেছেন "শূন্য সৃষ্টিতে ঈশ্বরের প্রয়োজক নেই" এর ব্যাখ্যা এভাবে দাড় করানো হয় যে "এই মহাবিশ্বের বিপরীতে আছে এক বিশাল ব্লকহোল, এই ব্লাকহোল আর মহাবিশ্ব পরস্পর মিশে +1+(-1)=+1-1=0 হয়; আর এই 0 বা শূন্য সৃষ্টিতে কোন বাহ্যিক শক্তি বা সৃষ্টিকর্তা তথা ঈশ্বরের প্রয়োজন নেই"।
আসুন এবার আরেকটু বিস্তারিত আলোচনা করা যাক....
মনে করুন একজন মানুষ সমতল ভূমিতে 1m দৈর্ঘ্য 1m প্রস্থ এবং 1m গভীর একটি গর্ত খুড়লো; ফলে 1m^3 গভীর গর্ত তৈরী হলো। বিপরীতে 1m^3 আয়তনের মাটিও উপরে স্তুপ আকারে জমা হয়েছে।
এইবার ভাবুন এই গর্ত তৈরী তথা পরোক্ষভাবে তৈরী হওয়া ঐ স্তুপের জন্য নিশ্চয়ই একজন সৃষ্টিকর্তা তথা গর্ত খোড়ানীর প্রয়োজন হয়েছে।
বিষয়টা সাধারন পদার্থবিদ্যার সূত্রমতে মাটির স্তুপ তৈরীতে কাজ হয়েছে w=Fs [যেখানে F হলো বল এবং s হলো সরণ]; যেহেতু এটা ভূমিতে গর্ত করা হয়েছে তাই s এর পরিবর্তে স্তুপের উচ্চতা h বিবেচনায় w=Fh; বিপরীতে গর্তের জন্য কাজ হলো (ঋণাত্মক) -w= -Fh [ যেহেতু স্তুপের স্বাপেক্ষে গভীরতা বিপরীত উচ্চতা তাই এখানে -h বিবেচিত হলো]।
এখন এই বল F কে সূ্ত্র আকারে প্রকাশ করা যেতে পারে F=ma [যেখানে F হলো বল এবং a হলো এক্সেরালেশন বা ত্বরণ]; ভূমির ক্ষেত্রে এটা দাড়ায় F=mg [যেখানে g হলো অভিকর্ষক ত্বরণ]।
এইবার দেখুন তো, এই গর্ত বা স্তূপ উভয় তৈরীতে কিন্তু একটি ঠিকই একটি বল বা F এর প্রয়োজন হয়েছে।
এই বল বা F কি আসলে ঈশ্বর বা সৃষ্টিকর্তা? না....আমরা মুসলিমেরা এই বল তথা F এর মালিক'কেই সৃষ্টিকর্তা মানি; তবে নাস্তিকের প্রশ্নের জবাবে এই F পর্যন্ত যেতে পারলেই আপনি তাকে Fail করাতে পারবেন।
[ সৃষ্টিকর্তা/ ইশ্বর হলেন তিনি যিনি মহাবিশ্ব সৃষ্টির সাথে সাথে আমার পালনকর্তা এবং সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী ]।
কিছু বিষয়ে আবার ফোকাস করি...
এই গর্ত ও স্তুপ কিন্তু একইসাথে তৈরী হয়েছে; অর্থাৎ গর্ত তৈরী করেছেন বলেই স্তুপ তৈরী হয়েছে বা স্তুপ তৈরী করতেই গর্ত তৈরী হয়েছে। একই রকম মহাবিশ্ব বা ইউনিভার্স তৈরীর ফলাফলই হলো এই বিশাল ব্লাকহোল যা একইসাথে একইসময়ে তৈরী হয়েছে [যা এন্টি ক্রিয়েশন বিষয়টাকে সমর্থন করে; একইসাথে সাথে বিষয়টাকে আরও ন্যারো করলে তা ম্যাটার - এন্টিম্যাটার পর্যন্তও যেতে পারে]।
এবার মনে করুন এই স্তুপ হতে একদলা মাটি গর্তে পড়লো; তাহলে কি হবে?
নিশ্চয়ই তা গর্তের মাটির সাথে মিশে যাবে। একইভাবে ব্লকহোলে পড়ে কোন গ্রহ উপগ্রহ হারিয়ে যায়না বরং তা গ্যাপ ফিলাপ করে মাত্র [যা ভরের নিত্যতা সূ্ত্র মানে]। মাহবিশ্বের যা ক্ষতি হয় ; ব্লাকহোলের তা ক্ষতিপূরণ হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে।
কিন্তু উপরের F=mg সূত্রতে একটি বিষয় সামনে আসে যে শুধু শক্তি নয় বরং মহাবিশ্ব সৃষ্টিতে সাথে সাথে m সমরূপ কোন ইলিমেন্ট প্রয়োজন হয়েছে [যেমনটা গর্ত তৈরী করতে শক্তির পাশাপাশি সমতল ভূমিরও তো প্রয়োজন ছিলো] ; তাই এমনটা বলা হয়েই থাকে যে "মহাবিশ্ব তৈরীতে বিশাল স্পেস এবং অতি শক্তির আধারের প্রয়োজন হয়েছে"।
আবার এই m বা ভরকে শক্তির সাথে তুলনা করলে দাড়ায় E= mc^2 যেখানে m=E/c^2 তথা ভর বা পদার্থ তৈরীতে শক্তিই এনাফ ( বিপরীতে যেমনটা কোন বস্তুকে আলোর গতির বর্গের বিপরীতে নিক্ষেপ করলে তা আর পদার্থ নয় বরং শক্তিতে পরিণত হয়)।
আরও সূক্ষভাবে চিন্তা করলে আপনি পদার্থ তৈরীতে সূক্ষতম ফোটন বা আলোক প্যাকেজ/প্যাকেট পাবেন।
সুতরাং বিশ্বজগত তৈরীতে শুধুমাত্র শক্তি এবং শক্তির উৎস তথা সৃষ্টিকর্তা অবশ্যই আছেন; তাই আমাদের মনে প্রানে বিশ্বাস করা উচিত যে সৃষ্টিকর্তাই এই বিশ্বজগত সৃষ্টি করেছেন। একমাত্র উনিই এই জগতের মুলে রয়েছেন।
লেখক : নিশান আহমেদ নিয়ন
ফেসবুকে আমি : Arjun Deba Nath


0 Comments