'সাইকোথেরাপি কি' এই প্রশ্নের উত্তরও কমপক্ষে ৫০ শতাংশ মানুষ দিতে পারবে। যে ৫০ শতাংশ এর মানে জানে না, তাদের জন্য বলছি: সাইকোথেরাপি হচ্ছে, সাইকোলজিক্যাল কোনো সমস্যাকে সমাধান করার জন্য যে থেরাপি বা চিকিৎসা দেয়া হয় সেটাই!
সাইকোথেরাপি বিভিন্ন ধরণের হয়। তার মাঝে একটার সাথে আমরা প্রায় সবাই-ই পরিচিত। আর সেটা হচ্ছে, 'রিভার্স সাইকোথেরাপি', যেখানে আপনাকে একটা কাজ করতে মানা করা হবে কিন্তু আপনি সেই কাজটাই করবেন। যাদের সাইকোলজিক্যাল সমস্যার ক্ষেত্রে এই রিভার্স সাইকোথেরাপি কাজে লাগে না, তাদের ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয় অন্য কোনো সাইকোথেরাপি।
এমন এক ধরনের সাইকোথেরাপি হচ্ছে, কগনিটিভ বিহেভিয়েরাল থেরাপি বা সিবিটি। এই চিকিৎসায় আপনার চিন্তাভাবনাকে ও আপনার অ্যাটিটিউডকে পরিবর্তন করে আপনার লক্ষ্যের দিকে নিয়ে যাওয়া হয়।
কীভাবে এটা করতে হয়, কীভাবে এই ধরণের থেরাপি নিজে নিজে করবেন, এর ইতিহাস, আবিষ্কার ইত্যাদি সম্পর্কে আমি কথা বলবো না।
আমি মূলত কথা বলবো, 'আপনি কি সিবিটি বা কগনিটিভ বিহেভিয়েরাল থেরাপির জন্য যোগ্য কি না! অর্থাৎ, সিবিটির লক্ষণগুলো আপনার সাথে মিলে যায় কি না' সেটা নিয়ে!
দেখে নিন তবে লক্ষণগুলো,
প্রথম লক্ষণ, ফিল্টারিংঃ আপনি কি সবসময় পজিটিভ দিক থেকে চিন্তাভাবনা না করে, নেগেটিভ দিক থেকে ভাবেন? আপনার কি মনে হয়, আপনার চিন্তাভাবনায় পজিটিভিটির চেয়ে নেগেটিভিটি বেশি?
দ্বিতীয় লক্ষণ, পোলারাইজড থিংকিংঃ আপনাকে কোনো সমস্যা সমাধানের জন্য তিনটি অপশন দিলে, আপনি কি দুটো অপশন নিয়েই চিন্তা করেন? তিন নম্বর অপশনের দিকে ততটা মাথা ঘামান না?
তৃতীয় লক্ষণ, ওভার জেনারেলাইজেশনঃ নেগেটিভ অভিজ্ঞতার আলোকে আপনার কি সব মানুষকেই সমান মনে হয়? অতীতের কোনো ঘটনার কারণে আপনার কি সবাইকেই সমান ক্যারেক্টারের মানুষ বলে মনে হয়?
চতুর্থ লক্ষণ, জাম্পিং টু কনক্লুশনঃ সবকিছুতেই কি আপনি প্রমাণ খুঁজেন?
পঞ্চম লক্ষণ, ক্যাটাস্ট্রোফাইজিংঃ বিপদের সময়ে পজিটিভ দিকগুলোর চেয়ে নেগেটিভ দিকগুলো নিয়ে বেশি ভাবেন?
ষষ্ঠ লক্ষণ, পার্সোনালাইজেশনঃ আপনার কি সবসময় মনে হয় যে, আপনার আশেপাশে যা ঘটছে সেটার জন্য আপনিই দায়ী?
সপ্তম লক্ষণ, কন্ট্রোল ফ্যালাসিসঃ আপনার বর্তমান অবস্থার জন্য হয় আপনি দায়ী নয়তো একেবারেই আপনার দোষ নেই। এমনটা ভাবেন?
অষ্টম লক্ষণ, ফ্যালাসি অফ ফেয়ারনেসঃ সবকিছুর পার্ফেক্টনেস নিয়ে খুব বেশি ভাবেন?
নবম লক্ষণ, ব্লেইমিংঃ কোনো কিছু ঘটলে সেটার জন্য সর্বপ্রথম আপনি অন্যদের দোষ দেন?
দশম লক্ষণ, শ্যুডসঃ সবাই যাতে আপনার নিয়মে চলে সেটা ভাবেন?
এগারতম লক্ষণ, ইমোশনাল রিজনিংঃ 'আমার দ্বারা সবকিছু করার সম্ভব' বা 'আমি সবকিছুই পারি' এই ধরণের চিন্তাভবনা করেন?
বারতম লক্ষণ, অলওয়েজ বিয়িং রাইটঃ আপনি কি নিজেকেই সবসময় সঠিক বলে মনে করেন?
---------------------------------------
উপরের লক্ষণগুলোর সাথে প্রায় প্রত্যেক মানুষেরই একটা বা দুটো মিলে যেতে পারে। কিন্তু এর মানে এই নয় যে আপনাকে সিবিটি নেয়া লাগবে। উপরের সমস্যাগুলোর অর্ধেক কিংবা এর বেশি যদি আপনার সাথে মিলে যায় তাহলেই আপনার সিবিটি নেয়া উচিত। ( সংগ্রহ)
লেখক : মুনতাসির মাহদি
ফেসবুকে : Arjun Deba Nath


1 Comments
ভাল লাগলোরে দুস্ত, এগিয়ে যা,,,,,
ReplyDeleteme
রাজন ফকির